নব বঙ্গ
নব-ব্রাহ্মণ্য প্রবেশের ফল : বৃহৎবঙ্গ, পৃষ্ঠা:- ৫১৬ -৫১৯, দীনেশচন্দ্র সেন। ======================================== সেন রাজাদের সময়ে নব-ব্রাহ্মণ্য প্রবেশের ফলে বাঙ্গালার কোন কোন বিষয়ে যে মহৎ ক্ষতি হইয়াছিল, সে ক্ষতি শুধু মুসলমান-বিজয়ের পথ সুগম করিয়া দেয় নেই, অধিকন্তু বঙ্গীয় সমস্ত লোককে হীনবীর্য্য ও অধঃপতিত করিয়াছিল --- তাহা জাতিভেদকে লৌহের গণ্ডীতে আবদ্ধ করিয়া দেওয়া। ইহাদের পূর্ব্বেও জাতিভেদ ছিল এবং ব্রাহ্মণ-শূদ্র ছিল, কিন্তু তথা-কথিত হীনবর্ণ সম্বন্ধে ছোঁয়াচে রোগের সৃষ্টি এই সেন রাজাদের সময় হইতে। গুপ্ত ও পালশাসনে ছোঁয়াচে রোগ ছিল না বলিলেও অত্যুক্তি হইবে না। 'স্ত্রীরত্নং দুষ্কুলাদপি' ---- 'চণ্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরিভক্তিপরায়ণঃ' এ সকল শ্লোক সেন রাজাদের বহু পূর্ব্বে রচিত। বশিষ্ঠ চণ্ডাল-কন্যা বিবাহ করিয়াছিলেন ---- এ সকল তো অতি প্রাচীন যুগের কথা। পালরাজারা ও তৎসময়ের পরাক্রান্ত ব্যক্তিরা বিবাহ-বিষয়ে কোন গণ্ডীরক্ষা করিতেন না। সেই সকল রাজাদের সময়ের তীর্থগুলিতে জাতিভেদ ছিল না, সমাজেও ছোঁয়াচে রোগাক্রান্ত জাতিভেদ ছিল না। নব-ব্রাহ্মণ্য একটা বিশিষ্ট শ্রেণীর সৃষ্টি করিয়া জনস...