ধর্ম নিয়ে
বেদ ত্রিপিটক জেন্দাভেস্তা তোরাত বাইবেল গীতা কোরান প্রভৃতি কাদের জন্য লিখিত হয়েছে হয়েছে ?? অবশ্যই সমাজের মানুষের জন্য । আবার সব কয়টা বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চল ও পরিবেশে লিখিত হয়েছে বিভিন্ন মানুষের দ্বারা । এইসব ধর্মগ্রন্থের লিখনের সময়ও ভিন্ন । বেদ জেন্দাভেস্তা কাছাকাছি , তারপরে ভারতের বৌদ্ধ / জৈন ধর্ম , তারপরে আরবের সেমেটিক ধর্ম ইহুদি খ্রিস্টান এবং সবার পরে মাত্র আঠারো শত বছর আগে কোরান । ভারতের বেদ পারস্যের জেন্দাভেস্তার সময়কাল কাছাকাছি হলেও দুই সমাজের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি জলবায়ু এবং মানুষের বিবর্তন একসাথে হয়নি তাই এই দুই ধর্মগ্রন্থে ফারাক প্রচুর । আবার সেমেটিক ধর্মগুলির উদ্ভব আরবের রুক্ষ মরুতে , এবং এগুলি যেন একটা সিরিজ । তাই তোড়াত এর সাথে বাইবেলের এবং বাইবেলের সাথে কোরানের প্রচুর মিল ।কিছু কিছু জায়গায় মনে হয় কোরান বাইবেল তোড়াতের কপি পেস্ট । রক্ষ মরুর বেদুইনদের সাথে ভারতের নদী উপত্যকায় গড়া ধর্ম এক হওয়ার কথাও নয় । বিশেষ করে কোরানতো আরবের হেজাজ অঞ্চলের লোকেদের জন্য লিখিত হয়েছিল ।
যখন ধর্মগ্রন্থগুলি লিখিত হয়েছিল তখনের সময় থেকে আজকের সময়ের সমাজ সম্পূর্ণ বদলে গেছে । এবং সেই ধর্মগ্রন্থগুলির আধুনিকীকরণের চেষ্টাও হয়নি নিজেদের ঠমক বজায় রাখার জন্য । সে যুগে যান বাহন আবিষ্কার হয়নি , আর আজ মানুষ মহাকাশে চলে যাচ্ছে । জীব বিদ্যার বিকাশে মানুষের সম্পর্কে এবং তার দেহের ইলেকট্রন প্রোটন -- সহ যাবতীয় অণু পরমাণুর সাথে পরিচিত হয়েছে । জেনেটিক্স সমস্ত প্রাচীন ধ্যান ধারণা বদলে দিয়েছে , মেডিক্যাল সায়েন্স চিকিৎসার পুরো জগতকে বদলে দিয়েছে । অথচ আমাদের ধ্যান ধারণাকে বদলাতে পারেনি । তার জন্য দায়ী অবশ্যই শাসক ও তার রক্ষক ধর্ম ।
কেউ বলে তার বেদ গীতা অভ্রান্ত , কেউ বলে তার বাইবেল অভ্রান্ত আর কেউ বলে কোরান অভ্রান্ত , কেউ বলে --------- অভ্রান্ত । আবার সবাই নিজেরটা ছাড়া অন্যগুলিকে বলে ভ্রান্ত এবং সেই অর্থে প্রতিটি ধার্মিক ৯৯% নাস্তিক । কারণ সে নিজের ধর্ম ব্যাতিত অন্য ধর্মকে স্বীকার করেনা । ধর্মগ্রন্থ রচনাকালের খালি চোখের পর্যবেক্ষণ , পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকা , কম জানা , কম জ্ঞান এবং বিশেষ উদ্দেশ্য পালনের জন্য লিখিত বইগুলি প্রায় সব কয়টিই ভুলে ভরা বা বিশেষ ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য পূরণের জন্য লেখা । কোরানের ব্যাকরণগত ভুল চোখে পড়ার মত বলে অনেক আরবীয় তাত্ত্বিক । সবাই বলে তাদের ধর্মগ্রন্থ ঈশ্বর আল্লহ গডদের দ্বারা প্রেরিত লিখিত বাণী । এটা যে কতবড় মিথ্যা তা এখন সবাই জানে কিন্তু প্রকাশ করেনা জানা - অজানা ভয়ে । কোরানের বিরুদ্ধে কিছু বললেই কল্লা নিয়ে নেবে মুসলমানেরা । আর এইসমস্ত ধর্ম গ্রন্থ এবং তার অনুষঙ্গরা গড়ে দিয়েছে আচার অনুষ্ঠান যা এক বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেদের স্বার্থ পুরণ করেছে।
ধর্মগ্রন্থ বর্তমান সময়ে বৃদ্ধ স্থবির হয়ে গেছে । হাজার হাজার বছরের আগের জ্ঞান নিয়ে বর্তমানে চলা যায়না । ধর্ম দিয়ে কৃষি শিল্প বাণিজ্য চিকিৎসা শিক্ষা কিচ্ছু হয়না । ধর্মগ্রন্থগুলি আদিম মানসিকতায় পরিপূর্ণ বিকাশহীন স্থবির এক গ্রন্থ , বিজ্ঞানের সাথে কোনওমতেই এঁটে উঠছেনা । ফলে ধর্ম নিজের জোরে এগোতে পারছেনা , শাসক তার নিজের স্বার্থেই ধর্মকে টিকিয়ে রেখেছে । আমাদের দেশে সঙ্ঘ পরিবার আর বাংলাদেশ সহ ইসলামিক দেশে জামাত লস্কর বন্দুকের ডগায় ধর্মকে টিকিয়ে রেখেছে । তার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ দেখি রাজ্যে মমতার কাজে । ধর্ম স্থবির বিকাশহীন ; যা স্থবির যা বিকাশহীন তা মানবতা রক্ষার স্থায়ী প্রকল্প হতে পারেনা । তাই চলে দাঙ্গা লুট খুন ধর্মকে কেন্দ্র করে । ধর্ম তার নিজের নিয়মেই বিনাশ হবে একদিন ।
Sambhunath charbak FB থেকে।
Comments
Post a Comment