Banglar atit
পূর্ব ভারতে মূলত বৃহৎ বঙ্গের ইতিহাসে সেন যুগ একটি অন্ধকারময় যুগ। গৌরবময় পাল যুগে আদি বৌদ্ধ বাঙালি পাল রাজাদের রাজত্ব প্রায় আরাকান থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাজধানী ছিল মহাস্থানগড় (এখন পূর্ববঙ্গে)। 12th Century-র প্রথমদিকে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাট থেকে আদি শঙ্করাচার্যের অনুসারী স্মার্ত বৈদিক বৌদ্ধ বিদ্বেষী Estern Ganga dynastyর সাথে আসা এই সেন বংশ প্রাথমিকভাবে পাল রাজাদের অধীনে চাকরি করত। বিশ্বাসঘাতক এই সেন বংশ পাল রাজবংশকে ঠকিয়ে খুন করে বৃহৎ বঙ্গের রাজা হয়ে বসে। এর ফলে এক গৌরবময় বৌদ্ধ যুগের অবসান ঘটে।
আদি বাঙালি জাতির যে ইতিহাস কৃষ্টি যা লিখিত আকারে রাখা ছিল বৌদ্ধ মহাবিহারগুলির লাইব্রেরীতে, ব্রাহ্মণবাদী এই সেন বংশ তাদের রাজ শক্তি ব্যবহার করে এগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বিশ্বের দরবারে যে বৌদ্ধবিহার - মহাবিহার (বিশ্ববিদ্যালয়) গুলি সমাদৃত হতো, এই সেন বংশ তার অধিকাংশ ধ্বংস করে দেয়। বিহারে বিহারে যে বৌদ্ধ শ্রমণ, ভিক্ষু, আচার্য্য, সিদ্ধাচার্য্যরা ছিলেন সবাইকে এরা গণহত্যা করে। সেনেরা এই পবিত্র আদি বঙ্গভূমিকে বৌদ্ধ জৈন শ্রমণদের খুন করে রক্তস্নাত করেছিল। কিছু বৌদ্ধ শ্রমণ, ভিক্ষু, সিদ্ধাচার্য্যরা সামান্য কিছু পুঁথিপত্র সম্বল করে তিব্বতে পলায়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উদাহরণ স্বরূপ, বর্তমান পূর্ববঙ্গের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর যিনি সোমপুর মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি তিব্বতে পালিয়ে গিয়ে তিব্বতিদের সাদর আমন্ত্রণে সেখানেই শেষ জীবন অব্দি থেকে যান।
সেনেরা সমাজে জঘন্য জাতিবাদের প্রবর্তন করে। গৃহি বৌদ্ধ-জৈনদের অধিকাংশকে দলিত অস্পৃশ্য দাগিয়ে দেয়া হয়। তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার করা হতো। নিপীড়িত নিরুপায় ভূমিপুত্ররা জাতপাতহীন ইসলামকে অগ্রাধিকার দেয়। এরপর বখতিয়ার খিলজী বাংলা আক্রমণ করলে সেন বংশের পতন হয়। বখতিয়ার খিলজী বঙ্গে এসেছিল মূলত লুট করতে। কিন্তু ভূমিপুত্রদের লোকাল সাপোর্ট পায় এবং ব্রাহ্মণবাদী অত্যাচারী সেনবংশকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলে। প্রসঙ্গতঃ বখতিয়ার খিলজি নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস করেছিলেন এমন কোনও প্রমাণ নেই। এই গল্প ব্রাহ্মণবাদীদের দ্বারা সাজানো হয়েছিল। ঐতিহাসিক ডি. এন. এর স্বপক্ষে লিখে গেছেন।
মহাবিহার এবং শিক্ষা দীক্ষা সম্পর্কে অশিক্ষিত বখতিয়ারের কোনো ধারনাই ছিল না। যা ঘটেছিল তা হলো, বখতিয়ার মহারাজা ধীরাজ ধর্মপালের তৈরি তুলনামূলকভাবে নতুন একটি মহাবিহার (ওদান্তপুরী) রাজদুর্গ ভেবে আক্রমণ করে। এই রেকর্ডটুকুই মিনহাজের 'তবাকত-ই নসিরি' তে পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ পিরিয়ডে সাইন্টিফিকালি আর্কিওলজিক্যাল এক্সকাভেশন শুরু হয়। এর ফলে অনেক সত্যের উদঘাটন হয়। সত্য কখনো চাপা থাকে না। প্রসঙ্গতঃ, ভারত সরকার অনেক বছর ধরে প্রায় ইচ্ছাকৃতভাবেই চন্দ্রকেতুগড়ের খননকার্য বন্ধ রেখেছে।
#সংগৃহীত
সাথে থাকল পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার নামে বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের চিত্র। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন।
Comments
Post a Comment