অনি
👇মুসলমানরা যাকে ইব্রাহিম বলে , ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা তাকে বলে আব্রাহাম। ইব্রাহিম (আ.) এর দুই পুত্র ইসমাইল ও ইসহাক। ইসহাকের পুত্রের নাম হচ্ছে ইয়াকুব।মুসলমানরা যাকে ইয়াকুব নবী বলে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কছে তার নাম হচ্ছে যাকোব ( Jacob)। ইয়াকুব (আ:) এর আরেক নাম হচ্ছে ইসরাঈল। ইসরায়েল ১২ পুত্র ।এদেরকে বলা হয় বনী ইসরাইল। এই বনী ইসরাইল গোত্রের শেষ নবী বা মাসীহা হচ্ছেন ঈসা। ঈসা থেকেই খ্রিষ্টান ধর্মের উৎপত্তি। ঈসা হচ্ছেন খ্রিষ্টানদের যিশু খ্রিস্ট। ইহুদি , খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবী হচ্ছে মুসা ।বাইবেলে মুসাকে মোশি বলা হয়।বনী ইসরাইলের ইউসুফ নবীই হচ্ছে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জোসেফ। মজার বিষয় হচ্ছে তিনটি ধর্মগ্রন্থের কাহিনী কিন্তু প্রায় এক।ভিন্নতা শুধু নামে।খ্রিষ্টানরা নবীকে প্রফেট ( prophet) বলে।ইহুদীরা নবীদের বলে নাবি বা বক্তা। বিষয়টা হচ্ছে এমন __ আমরা বাংলায় বলি ভালো , ইংরেজরা বলে, গুড আর আরবেরা বলে, বিখায়ের। শব্দ কিন্তু একটাই ।একেক ভাষায় একেক ভাবে বলা হচ্ছে।অল্প একটু ভিন্নতা ছাড়া সব ধর্মের গল্পের ভাষা এক হলেও হাজার হাজার বছর ধরে এরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করে নিজ নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য লড়াই করছে। কত বড় আহম্মক পৃথিবীর মানুষ?
🙏পৃথিবীর সকল একেশ্বরবাদী ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে সেমিটিক জাতি থেকে।সেমিটিক জাতি হচ্ছে মেসোপটেমিয়া ও লেভান্ট ( সিরিয়া ,জর্দান ও ফিলিস্তিন) থেকে। সেমিটিক জাতি উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী।"ঈশ্বর একজন " এই ধারণা পৃথিবীতে প্রথম প্রচার করে ইহুদীরা।আমরা যাকে আল্লাহ বলি ইহুদীরা তাকে এলোহিম বলে , খ্রিষ্টানরা বলে গড ( God)। এখানেও মজার বিষয় হচ্ছে, " ঈশ্বর একজন কিন্তু ধর্ম হচ্ছে তিনটা।
📍পৃথিবীতে মুসলিম জাতি বলে কখনোই কিছু ছিলো না। ইতিহাসে ইহুদি জাতির কথা উল্লেখ থাকলেও মুসলিম জাতির উল্লেখ কোথাও নেই। মুসলিমদের উৎপত্তি হয়েছে আরব জাতি থেকে।এই আরব জাতি হচ্ছে ইব্রাহিম (আ.) এর পুত্র ইসমাইলের বংশধর। ইসমাইলের ভাই ইসহাক থেকে ইয়াকুব নবী হয়ে ইহুদীদের জন্ম। ইহুদীদের বংশে শেষ নবী হিসেবে যিশু খ্রিস্ট বা ঈসা নবীর জন্ম হয়ে খ্রিস্টান ধর্মের জন্ম। অপরদিকে ইসমাইলের বংশধর থেকে জন্ম হচ্ছে আরব জাতি।এই আরব জাতি তিনটি প্রাচীন গোত্রে বিভক্ত ছিল: মাগান , মিদিয়ান ও আদ। মাগান হচ্ছে মুসা নবী যে অঞ্চলে সফর করেছেন। মিদিয়ান হচ্ছে মুসা নবীর জন্মস্থান।যাদের পেশা ছিলো মেষ পালন করা। অপরদিকে আজ ছিল দক্ষিণ আরবের সবচেয়ে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দিকে উন্নত।বলা হয় , অবাধ্যতার কারণে আদদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
🏓আরব জাতি ছিলো ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী।সিরিয়া , ফিলিস্তিন ও জর্ডান তথা লেভান্ট অঞ্চলের আরবরা প্রধান দুটো গোত্রে বিভক্ত ছিল যথাক্রমে কাইস ও ইয়ামান।এই ইয়ামান গোত্রের একটি উপগোত্র হচ্ছে বনু হাশিম গোত্র।এই বনু হাশিম গোত্র এসেছে কুরাইশ বংশ থেকে।কুরাইশ বংশ এসেছে কেনানা গোত্র থেকে।এরা মুর্তিপূজা করতো। ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে কুরাইশরা মক্কা নিয়ন্ত্রণ করতো।এই কুরাইশ বংশের বানি হাশেম উপগোত্রে নবী মোহাম্মদের জন্ম। মজার বিষয় হচ্ছে , পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিনটি ধর্মের উৎপত্তি প্রায় একই জায়গায়। ইসরায়েল যেখানে ইহুদী ধর্মের জন্ম , ইসরাইলের উত্তর অংশে খ্রিষ্টান ধর্ম তথা যিশু খ্রিস্টের জন্ম। অপরদিকে ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি হচ্ছে মক্কা নগরীতে।
🧨১,৪৪ , ০০০ বর্গমিটার আয়তনের আল আকসা কমপ্লেক্স নিয়ে দীর্ঘ কয়েক শত বছর ধরে এই তিনটি ধর্মের মানুষ নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে, যা এক কিলোমিটারের প্রায় সাত ভাগের একভাগ মাত্র।আমরা জানি দশ লক্ষ বর্গ মিটার = ১ কিলোমিটার।
🛑 মুসলমানদের পবিত্র আল আকসা মসজিদ , ইহুদিদের টেম্পল মাউন্ট ও খ্রিস্টানদের জেরুজালেম চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার ওই একই জায়গায়।এমনকি যিশুর জন্মস্থান নাজারাত ইসরাইলের জেরুজালেমে অবস্থিত। ইসরাইলের উপর আঘাত যে ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের উপর আঘাত তা বুঝতে আপনাদের এখন আর খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়।ঈশ্বর একজন অথচ একটা ভবনের তিনটা খুঁটি নিয়ে শত শত বছর ধরে টানাটানি করছে তিনটা ধর্ম।ঈশ্বর যদি পৃথিবীতে একজন হয় , তবে ধর্ম নিয়ে পৃথিবীতে এত হানাহানি ও মারামারি কেন? কেন মানুষ হত্যা করেই পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে?
📌ইহুদিরাও বর্তমান অর্থোডক্স, কনজারভেটিভ, রিফর্ম , রিকনস্ট্রাকশনিস্ট ভাগে বিভক্ত। খ্রিষ্টানরাও ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট দুই ভাগে বিভক্ত।মুসলমানরা শিয়া ও সুন্নি প্রধানত এই দুইভাগে বিভক্ত।আলীর শিয়া থেকে মুসলমান আরেকটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে যাদেরকে বলা হয় খারেজী মুসলমান।যারা খলিফা উসমান ও আলীকে হচ্যা করেছে জামায়াত শিবির হচ্ছে সেই খারেজী মুসলমানের বংশধর। এদের মতবাদ হচ্ছে উগ্র সালাফি ও ওহাবি মতবাদ।এরাই নাকি আবার বাংলাদেশের ১৬ কোটি মুসলমানকে জান্নাতে নেওয়ার স্বপ্ন দেখায়। ধর্মীয় ভণ্ডামি কত প্রকার ও কি কি তা বুঝতে হলে ভন্ড জামায়াত ও মওদুদীকে জানার যেমন কোন বিকল্প নাই।ঠিক তেমনি ধর্মকে বুঝতে হলে ধর্মের উৎস খুঁজতে হবে।যে সেমিটিক জাতি থেকে ইহুদি , খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের উৎপত্তি হয়েছে সেই সেমিটিক জাতি হচ্ছে নূহ ( আ.) এর পুত্র শাম এর বংশধর।নুহ এর তিন পুত্র শাম, হাম ও ইয়াফেস এর কথা ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ বুক অফ জেনেসিস ও খ্রিস্টানদের বাইবেলেও বলা হয়েছে। আপনি যাকে নুহ বলছেন অন্যরা হয়তো তাকে নুহা বলছে। মজার বিষয় হচ্ছে নুহ আ. এর তিন পুত্র শাম থেকে সেমিটিক জাতি, হাম থেকে কেনান জাতি এবং ইয়াফেস থেকে ইউরোপীয় জাতি।আরও মজার বিষয় হচ্ছে ইসলাম ধর্ম পৃথিবীতে আসার ৭০০ বছর আগেই চীনারা কাগজ ও বারুদ আবিষ্কার করে বসে আছে।আরও মজার বিষয় হচ্ছে যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও ২১০০ বছর আগে পৃথিবীর এই তিনটি ধর্মগ্রন্থ পৃথিবীতে আসার আগে গীলগামেশ নামক মহাকাব্য নুহ এর মহা প্লাবনের কথা উল্লেখ রয়েছে। সত্য ও মিথ্যা সেই বিচারের দায়িত্ব আপনার।
🔥পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষের জন্য ৪৩০০ ধর্ম। রাজনৈতিক দলের চেয়েও পৃথিবীতে ধর্ম বেশী।পৃথিবীতে ধর্ম বা বিশ্বাসের সঠিক সংখ্যা হিসাব করলে তা আনুমানিক দশ হাজার হয়। জামায়াত শিবির হচ্ছে এমন একটি ধর্মের নাম, যারা রাজনীতির নামে জান্নাতের চাবি বিক্রি করে মানুষকে আহম্মক বানায়।
মানুষ কত বড় আহম্মক হলে এসবে বিশ্বাস করে?
ধন্যবাদ।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম
Comments
Post a Comment