বঙ্গভূমি

বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ? গবেষকরা বলেন , আজ থেকে ৬০ হাজার বছর পূর্বে চীন থেকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন শুরু হয়।আজ থেকে পাঁচ কোটি বছর আগে ভারতের হিমালয় থেকে আসা পলি জমতে জমতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।" খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে, নন্দ সাম্রাজ্যের গঙ্গারিড়াইয়েই শক্তিশালী শাসকরা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের অভিযানের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল এই বাংলায়।বাংলার অধিকাংশ অঞ্চল ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ।গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর বাংলা রাজা শশাঙ্কের শাসনে আসে।৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে গোপালের উত্থানের সাথে বাংলা পাল সাম্রাজ্যর অধীনে আসে। তাদের অধীনে বাংলাদেশ চর্যাপদের মতো সাহিত্যর সংস্পর্শে আসে। কিন্তু এই বাংলায় মূল সমস্যা শুরু হয় ত্রয়োদশ শতকে ইখতিয়ার বিন বখতিয়ার খিলজিদের আগমনের মধ্যে দিয়ে।১৩ শতক থেকে ২০২৫ সাল আজ পর্যন্ত এই বাংলা ভূখন্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে " হিন্দু - মুসলমান " সমস্যা। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হিন্দু ও মুসলমান অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে। এটাকে উপলদ্ধি করেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে " ধর্মনিরপেক্ষতা " শব্দটা জুড়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ " ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রটা সবার।" বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে জন্ম নিয়েছেন জগদীশ চন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, জামাল নজরুল ইসলাম স্যার , সাত্তার খান ও আনিসুর রহমান ও সেঁজুতি সাহাদের মতো পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানী। বাংলা সাহিত্যেকে সমৃদ্ধ করেছেন কানা হরি দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত পৃথিবী বিখ্যাত সাহিত্যিক।এই দেশের মাটি ও মানুষের কথা কবিতার সুরে বলেছেন পল্লীকবি জসীম উদ্দিন ও কবি শামসুর রাহমানের মত কবিতা।এই দেশে নারী জাগরণের গান গেয়েছেন বেগম রোকেয়ারা। কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ও সূর্যসেনরা হাসতে হাসতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।এই বাংলাদেশ সৃষ্টিতে মৌলবাদীদের কোন অর্জন কখনোই ছিলো না , আজও নেই। বঙ্গদেশে জন্মেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা , মাওলানা ভাসানী ও তাজউদ্দীনের মত পৃথিবী বিখ্যাত রাজনীতিবীদরা।সকল রাজনীতিবীদকে ষাটের দশকে ছড়িয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির সাত হাজার বছরের ইতিহাসে জন্ম নেওয়া সর্বশেষ মানবের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আপনি/ আপনারা এসব স্বীকার না করলেও কিছুই যায় আসে না। বঙ্গবন্ধুই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে " বাংলাদেশ " নামক কোনদিন সৃষ্টি হতো না। শত শত বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে হিন্দু , মুসলিম, বৌদি, খ্রিস্টান ও আদিবাসীরা এই অঞ্চলে বসবাস করেছেন। বার্মা রাজা , ত্রিপুরা রাজা , পাল , আর্য , মোঘল , আফগান , ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের ২৩ বছরের দুঃশাসন থেকে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।এই ভূখণ্ডের জন্য মৌলবাদীদের কোন সহযোগিতা তো ছিলো না বরং ওরা আমাদের ত্রিশ লক্ষ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে পাকিস্তানীদের সাথে মিলে।এই সত্য আপনি/ আপনারা স্বীকার না করলেও এটাই বাংলার ইতিহাস।" জয় বাংলা" দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মৌলবাদীরা ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ। ব্রিটিশের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্স দিয়ে ১৯৪১ সালে পাকিস্তানের লাহোরে জামায়াতের আমীর মাওলানা মওদুদীর নেতৃত্বে " জামায়াতে ইসলামী হিন্দ" আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। জামায়াতে ইসলামী নামক অভিশপ্ত সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হিন্দু ও মুসলমান সাম্প্রদায়িক সংঘাত উস্কে দেয়ার পাশাপাশি এরা শিয়া - সুন্নি ও কাদিয়ানি ত্রিমুখী সংকটের সৃষ্টি করে বাঙালি জাতিকে এক দ্বিধাবিভক্ত জাতিতে পরিণত করেছে।১৯৪৬ সালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হিন্দু - মুসলিম দাঙ্গার সবচেয়ে বড় ভাইরাসের নাম ছিল অভিশপ্ত জামায়াতে ইসলাম। মোগলদের ৩৩০ বছরের শাসন, ব্রিটিশের দুইশো বছরের শাসনেও যে ক্ষতি এই বাংলাদেশের হয়নি , তাই হয়েছে পাকিস্তানের মাত্র ২৩ বছরের শাসনে।যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন সকল জাতি ধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের ভণ্ড মওদুদীর কাছ থেকে বায়াত প্রাপ্ত হয় জামায়াতের আমীর ও ১৯৭১ সালের কসাই ' গো আযম।" বাংলাদেশের মানুষ যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তির আন্দোলন করছে তখন ১৯৫৭ সালে আমেরিকার সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই মিলো গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে।১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলায় ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতারের পর ১৯৬৯ সালে যখন সমগ্র বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে উত্তাল , তখন গো আযমকে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর বানানো হয়। জামায়াত নেতা গো আযম , মতিউর রহমান নিজামী ও ছাত্রশিবির তথা মুখোশধারী ছাত্র সংঘের কসাই কাদের এদের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষদের হত্যার জন্য গঠিত হয় আলবদর, রাজাকার , আল শামস ও শান্তি কমিটি।এরাই আমাদের ত্রিশ লক্ষ শহীদ হত্যা ও ৪ লক্ষাধিক মা ও বোনকে ধর্ষণ করে।এমন অভিশপ্ত ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আর একটিও নেই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তান পালিয়ে যায়।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বন্ধুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিএনপি।১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত অভিশপ্ত রাজনৈতিক দলকে জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দেন জিয়া।১৯৭৭ সালেই নিজের রাজনৈতিক খায়েশ থেকে জিয়াউর রহমান " জাগদল " প্রতিষ্ঠা করেন।১৯৭৮ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর " জাগদল " ভেঙে দিয়ে জিয়াউর রহমান " বিএনপি " নামক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। বাঙালির ২৩ বছরের স্বাধীনতার সংগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কোন অর্জন ছিলো না। বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের ৩১ বছর পর।এর পেছনেও হাত ছিল আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর। এজন্য ১৯৭৯ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সাথে মিলে জিয়াউর রহমান আমেরিকার কলকাঠি হয়ে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত রাশিয়াকে হটানোর জন্য বাংলাদেশের ভেতরে জঙ্গীবাদের বীজ রোপণ করে তাদের বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে যুদ্ধের জন্য পাঠিয়েছিলেন। আফগানিস্তান যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে এই জ-ঙ্গীরা আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিএনপি ও জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইসলামের কথা বলে বিভিন্ন জ-ঙ্গী সংগঠন তৈরি করতে করতে আজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জ-ঙ্গী সংগঠনের সংখ্যা হচ্ছে ৪০ টি তথা পাকিস্তানের দ্বিগুণ। এইসব চক্রান্তের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছিল আমেরিকার ডিপ স্টেটের। এজন্য মুখে আমেরিকার বিরোধিতা করলেও বিএনপি ও জামায়াত আমেরিকার গোলাম ছাড়া আর কিছুই নয়। বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন।নস্ট্রাদামুসের মতো ভবিষ্যৎ বাণী করতে পারতেন।আজ থেকে ৫৪ বছর আগে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তৈরি করেছেন।আজ থেকে ৫২ বছর আগে বাংলাদেশের সংবিধানের ৪ টি স্তম্ভকে " মুজিববাদ " আখ্যা দিয়ে মুজিববাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু গণপরিষদে ভাষণে বলেছেন, " আজ এখানে বসে চারটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য এমন একটি সংবিধান রচনা করতে হবে , যাতে তারা দুনিয়ার সভ্য দেশের মানুষের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।" ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্ট বাংলাদেশে মেটিউকুলাস ডিজাইনের একটি জঙ্গিথ্যানের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এসব আগে থেকেই জানতেন।১৯৭২ সালে ৪ নভেম্বর ব্রিটিশ আইনজ্ঞ আই গাথরিকে নিয়ে তৎকালীন ১৪ হাজার টাকা খরচ করে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ , সমাজতন্ত্র , ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রকে বাংলাদেশের চারটি পিলার হিসেবে তৈরি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলে গিয়েছিলেন , " এর একটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে যাবে।" আজ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঙ্গবন্ধুর সেই কথাটি বারবার সত্য প্রমাণিত হচ্ছে।এটাই বাঙালি ও বাংলাদেশ রক্ষার মুজিববাদ। আজ আমাদের মাঝে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু নেই।আজ তাজউদ্দীনের মতো বঙ্গবন্ধুর অতন্দ্র প্রহরীও বেঁচে নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া বাঙালির শেষ সম্পদ , আমাদের লাইট হাউস শেখ হাসিনা এখনও বেঁচে আছেন। মৃত বঙ্গবন্ধুর যে মুজিববাদের কবর বাংলাদেশে হয়ে গিয়েছিল সেই মুজিববাদের কবর দিতে গিয়ে আবার সেই মুজিববাদ জাগিয়ে দিয়েছে ৭১ এর খুনী ও ধর্ষকরা। একমাত্র মুজিববাদ পারে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। বঙ্গবন্ধুর " মুজিববাদ" ছাড়া বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব। "মুজিববাদ" হচ্ছে আমাদের বাঙালির একমাত্র ভবিষ্যৎ।। দেশ আপনার, সিদ্ধান্তও আপনার।। সত্য সবসময় সুন্দর। লুসিড ড্রিম ২৬- ১০-২০২৫

Comments

Popular posts from this blog

ধর্ম নিয়ে

Banglar atit