সতী দাহের নির্মমতা

https://www.facebook.com/share/17y3RYn4Xo/ প্রসঙ্গঃ সতীদাহ প্রথা—যেভাবে পালিত হতো :- সতীদাহ মূলত উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজেই প্রচলিত ছিল। হাজার হাজার বছর ধরে অসংখ্য ভারতীয় হিন্দু নারী জীবিত অবস্থায় চিতার লেলিহান আগুনে প্রবেশ করেছেন কখনও স্বেচ্ছায়, কখনও জোরপূর্বক। ♦ স্বেচ্ছায় হলেও মানবিকতার বিচারে এই প্রথার অস্তিত্ব ভারতীয় সভ্যতার এক ভয়াবহ কলঙ্কবিন্দু। ♦ কিন্তু কীভাবে পালিত হতো এই নৃশংস প্রথা? ♦ গোরাচাঁদ মিত্রের লেখা ‘সতীদাহ’ বইয়ের বর্ণনা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো স্বামীর মৃতদেহ চিতায় শায়িত। নাপিত এসে বিধবা নারীর নখ কেটে দিলেন। শুচিতার নিয়ম অনুযায়ী তিনি স্নানের উদ্দেশ্যে এগোলেন হাতে ভাঙা শাঁখা, চোখে নিস্তব্ধতার ছাপ। স্নান শেষে শুরু হলো চিতারোহণের সাজ। আত্মীয়রা এগিয়ে এসে পরিয়ে দিল লাল চেলী, হাতে রাঙা সুতায় বাঁধা আলতা, কপালে টকটকে লাল সিঁদুর। চুল সযত্নে আচড়ানো, গায়ে অলংকার—সব মিলিয়ে যেন তাকে হাতের পুতুলের মতো সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। স্বামীহারা স্ত্রী চোখের জল ফেলতেও সাহস পেতেন না এ যেন এক সামাজিক নাটকের চরিত্রমাত্র। তিনি কুশ হাতে নিয়ে পুবমুখে বসে আচমন করলেন। হাতে তিল, জল আর কুশনির্মিত ত্রিপত্র তুলে ব্রাহ্মণদের ঘিরে উচ্চারিত হলো, "ওঁ তৎসৎ"। বিধবা নারীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো শপথ এই অমুক তিথিতে, অমুক দিনে, অমুক গাত্রে, তিনি অরুন্ধতীর সমমর্যাদায় স্বর্গপ্রাপ্তির আশায় স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় আরোহণ করছেন। তিন কোটিরও বেশি বছর স্বর্গসুখ ভোগের কামনায়, মাতৃকুল–পিতৃকুল–পতিকুলকে পবিত্র করার অভিপ্রায়ে এবং যদি স্বামী পাপী হন তবে তাকেও পরিশুদ্ধ করার সংকল্পে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করছেন। তিনি ডাকলেন সূর্য, চন্দ্র, বায়ু, অগ্নি, আকাশ, ভূমি, জল, ধর্ম, যম এবং সময়কে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করলেন যে তিনি স্বামীর অনুগামী হয়ে প্রজ্বলিত চিতায় প্রবেশ করছেন। এবার শুরু হলো চিতাপ্রদক্ষিণ—সাতবার খই, খণ্ড, কড়ি আঁচলে বেঁধে। মন্ত্রপঠনের পর বিধবা স্ত্রী স্বামীর পাশে চিতায় শায়িত হলেন। উল্লাসরত আত্মীয়রা গাছের ছালের দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে তাকে বেঁধে ফেলল যেন কোনো বিকার ঘটলে তিনি পালাতে না পারেন। এরপর নিকট আত্মীয় এগিয়ে এসে অগ্নিসংযোগ করলেন। ঢাক–ঢোল, কাঁসরের আর্তনাদে পরিবেশ স্তব্ধ। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল চিতা। কিন্তু তাতেই শেষ নয় পুণ্যার্থীরা কেউ কেউ তীর–কাঁটা ছুঁড়ে আগুন আরও উসকে দিতে লাগল। চিতার পাশে ‘ধর্মরক্ষাকারীরা’ দাঁড়িয়ে থাকত মোটা বাঁশ হাতে বিধবা স্ত্রী যদি সামান্য নড়াচড়াও করতেন, বাঁশের উপর্যুপরি আঘাতে তাকে নিস্তেজ করে ফেলা হতো। যদি কোনো নারী দৈবক্রমে চিতা থেকে পালিয়ে যেতেন, অনুষ্ঠান–কর্তারা ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে টেনে–হিঁচড়ে আবার আগুনে নিক্ষেপ করত না হলে নাকি বংশের মুখে কলঙ্ক লেগে যেত! চিতার আগুন ধীরে ধীরে নিভে গেলে পুরোহিতের আরেক কাজ ছাই উলটে অলংকার সংগ্রহ করা। কারণ ওই অলংকারগুলির নতুন মালিক সাধারণত তিনিই। অন্যদিকে মৃতের আত্মীয়রা ঘরে ফিরতে ফিরতে হিসাব কষতেন স্ত্রীর মৃত্যুর কারণে মৃত ব্যক্তির কত সম্পত্তি তাদের দখলে আসবে। অনেক ক্ষেত্রে দাহের আগেই বিধবা নারীকে মদ–ভাঙ খাইয়ে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়া হতো যেন তিনি প্রতিবাদ করতে না পারেন। ভাবলে বিস্ময় লাগে স্বর্গসুখের অপার্থিব প্রতিশ্রুতি আর ধর্মের নামে ভয় দেখিয়ে অগণিত নারীকে ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস প্রথার শিকার হতে হয়েছিল। তথ্যসূত্রঃ সতীদাহ | লেখকঃ গোরাচাঁদ মিত্র #photo #viralpost2025 #highlights

Comments

Popular posts from this blog

ধর্ম নিয়ে

Banglar atit