Posts

সংবিধানে বাকস্বাধীনতা

https://www.facebook.com/share/1ZdDiu4bdT/ আইনের চোখে ---- ◾কোরআন সম্পর্কে অসীম উবাচ◾ ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)ক অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের অধিকার আছে। নিজের মতামত প্রকাশ করার জন্য কথা বলা, লেখা, ছাপা, ছবি, প্রতীক, সংবাদমাধ্যম ইত্যাদির মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করার অধিকার প্রত‍্যেকর আছে, তবে তা হতে হবে যুক্তিনির্ভর এবং শালীন। কিন্তু মনে রাখতে হবে -- #তার_এই_অধিকার_মোটেও_পরম_নয় (Not absolute), #তার_বহু_সীমাবদ্ধতা_আছে। অনুচ্ছেদ ১৯(২-৬): বাকস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার জন‍্য রাষ্ট্র যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ (reasonable restrictions) আরোপ করা হয়েছে। নিম্নলিখিত কারণে বাকস্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে — ১. রাষ্ট্রের নিরপত্তা ( Security of State) : রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বিদ্রোহ বা দেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ। ২. বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ। ৩. জনশৃঙ্খলা (Public Order) : যে বক্তব্য দাঙ্গা, অশান্তি বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ৪. শালীনতা ও নৈত...

সতী দাহের নির্মমতা

https://www.facebook.com/share/17y3RYn4Xo/ প্রসঙ্গঃ সতীদাহ প্রথা—যেভাবে পালিত হতো :- সতীদাহ মূলত উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজেই প্রচলিত ছিল। হাজার হাজার বছর ধরে অসংখ্য ভারতীয় হিন্দু নারী জীবিত অবস্থায় চিতার লেলিহান আগুনে প্রবেশ করেছেন কখনও স্বেচ্ছায়, কখনও জোরপূর্বক। ♦ স্বেচ্ছায় হলেও মানবিকতার বিচারে এই প্রথার অস্তিত্ব ভারতীয় সভ্যতার এক ভয়াবহ কলঙ্কবিন্দু। ♦ কিন্তু কীভাবে পালিত হতো এই নৃশংস প্রথা? ♦ গোরাচাঁদ মিত্রের লেখা ‘সতীদাহ’ বইয়ের বর্ণনা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো স্বামীর মৃতদেহ চিতায় শায়িত। নাপিত এসে বিধবা নারীর নখ কেটে দিলেন। শুচিতার নিয়ম অনুযায়ী তিনি স্নানের উদ্দেশ্যে এগোলেন হাতে ভাঙা শাঁখা, চোখে নিস্তব্ধতার ছাপ। স্নান শেষে শুরু হলো চিতারোহণের সাজ। আত্মীয়রা এগিয়ে এসে পরিয়ে দিল লাল চেলী, হাতে রাঙা সুতায় বাঁধা আলতা, কপালে টকটকে লাল সিঁদুর। চুল সযত্নে আচড়ানো, গায়ে অলংকার—সব মিলিয়ে যেন তাকে হাতের পুতুলের মতো সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। স্বামীহারা স্ত্রী চোখের জল ফেলতেও সাহস পেতেন না এ যেন এক সামাজিক নাটকের চরিত্রমাত্র। তিনি কুশ হাতে নিয়ে পুবমুখে বসে আচমন করলেন। হাতে তিল, জল আর কুশনির্মিত ত্রি...

Banglar atit

পূর্ব ভারতে মূলত বৃহৎ বঙ্গের ইতিহাসে সেন যুগ একটি অন্ধকারময় যুগ। গৌরবময় পাল যুগে আদি বৌদ্ধ বাঙালি পাল রাজাদের রাজত্ব প্রায় আরাকান থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাজধানী ছিল মহাস্থানগড় (এখন পূর্ববঙ্গে)। 12th Century-র প্রথমদিকে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাট থেকে আদি শঙ্করাচার্যের অনুসারী স্মার্ত বৈদিক বৌদ্ধ বিদ্বেষী Estern Ganga dynastyর সাথে আসা এই সেন বংশ প্রাথমিকভাবে পাল রাজাদের অধীনে চাকরি করত। বিশ্বাসঘাতক এই সেন বংশ পাল রাজবংশকে ঠকিয়ে খুন করে বৃহৎ বঙ্গের রাজা হয়ে বসে। এর ফলে এক গৌরবময় বৌদ্ধ যুগের অবসান ঘটে। আদি বাঙালি জাতির যে ইতিহাস কৃষ্টি যা লিখিত আকারে রাখা ছিল বৌদ্ধ মহাবিহারগুলির লাইব্রেরীতে, ব্রাহ্মণবাদী এই সেন বংশ তাদের রাজ শক্তি ব্যবহার করে এগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বিশ্বের দরবারে যে বৌদ্ধবিহার - মহাবিহার (বিশ্ববিদ্যালয়) গুলি সমাদৃত হতো, এই সেন বংশ তার অধিকাংশ ধ্বংস করে দেয়। বিহারে বিহারে যে বৌদ্ধ শ্রমণ, ভিক্ষু, আচার্য্য, সিদ্ধাচার্য্যরা ছিলেন সবাইকে এরা গণহত্যা করে। সেনেরা এই পবিত্র আদি বঙ্গভূমিকে বৌদ্ধ জৈন শ্রমণদের খুন করে রক্তস্নাত করেছিল। কিছু বৌদ্ধ শ্রমণ, ভিক...

মনু..

♦️মনুসংহিতা, পরশুরাম ও অনার কি/লিং♦️ মনুস্মৃতি (হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও প্রভাবশালী গ্রন্থ ও বর্ণাশ্রম-ব্যবস্থার প্রধান তাত্ত্বিক ভিত্তি) অনুসারে উচ্চবর্ণের মেয়ে আর নিম্নবর্ণের ছেলের বিয়ে কোনোভাবেই শাস্ত্রসম্মত নয়। এই বিয়ে(প্রতিলোম বিবাহ) মনুসংহিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। এই বিয়ে থেকে জন্মানো সন্তান সবচেয়ে নিকৃষ্ট বর্ণসংকর (চণ্ডাল ইত্যাদি)। এই ধরনের বিয়ে ঘটলে ব্রাহ্মণ/ক্ষত্রিয়/বৈশ্য বর্ণভ্রষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বাস হচ্ছে না? সুস্থ ও সভ্য মানুষের বিশ্বাস না হওয়াই স্বাভাবিক। নিচে মনুসংহিতা থেকে কয়েকটি অধ্যায় ও শ্লোকের উদাহরণ দিলাম। নিজে গুগল থেকে যাচাই করে নিন। 👇👇👇 মনু ৩.১৩–১৯, মনু ১০.৬–১২, ১০.২৪, ১০.৪১, মনু ৩.১৫৬, মনু ১১.১৭৫ পরশুরামের কাহিনিও একই। মা রেণুকা একটু অন্য পুরুষের দিকে তাকিয়েছিলেন বলে পরশুরাম তাঁর মাথা কে/টে ফেলেছিলেন বাবার নির্দেশে। এই কাহিনীকে আজও সম্মান দিয়ে পুজো করা হয়, এই ভাবনাকে মান্যতা দিয়ে নাকি মন্দিরে মানত করা হয়। অর্থাৎ আমরা যে সমাজে বড় হয়েছি, সেই সমাজই শিশুকাল থেকেই শেখায়:- নারীর শরীর আর জাতের ‘পবিত্রতা’ রক্ষা করতে গেলে মা-বোন-মেয়েকেও খু/ন করা বৈধ...

নব বঙ্গ

নব-ব্রাহ্মণ্য প্রবেশের ফল : বৃহৎবঙ্গ, পৃষ্ঠা:- ৫১৬ -৫১৯, দীনেশচন্দ্র সেন। ======================================== সেন রাজাদের সময়ে নব-ব্রাহ্মণ্য প্রবেশের ফলে বাঙ্গালার কোন কোন বিষয়ে যে মহৎ ক্ষতি হইয়াছিল, সে ক্ষতি শুধু মুসলমান-বিজয়ের পথ সুগম করিয়া দেয় নেই, অধিকন্তু বঙ্গীয় সমস্ত লোককে হীনবীর্য্য ও অধঃপতিত করিয়াছিল --- তাহা জাতিভেদকে লৌহের গণ্ডীতে আবদ্ধ করিয়া দেওয়া। ইহাদের পূর্ব্বেও জাতিভেদ ছিল এবং ব্রাহ্মণ-শূদ্র ছিল, কিন্তু তথা-কথিত হীনবর্ণ সম্বন্ধে ছোঁয়াচে রোগের সৃষ্টি এই সেন রাজাদের সময় হইতে। গুপ্ত ও পালশাসনে ছোঁয়াচে রোগ ছিল না বলিলেও অত্যুক্তি হইবে না। 'স্ত্রীরত্নং দুষ্কুলাদপি' ---- 'চণ্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরিভক্তিপরায়ণঃ' এ সকল শ্লোক সেন রাজাদের বহু পূর্ব্বে রচিত। বশিষ্ঠ চণ্ডাল-কন্যা বিবাহ করিয়াছিলেন ---- এ সকল তো অতি প্রাচীন যুগের কথা। পালরাজারা ও তৎসময়ের পরাক্রান্ত ব্যক্তিরা বিবাহ-বিষয়ে কোন গণ্ডীরক্ষা করিতেন না। সেই সকল রাজাদের সময়ের তীর্থগুলিতে জাতিভেদ ছিল না, সমাজেও ছোঁয়াচে রোগাক্রান্ত জাতিভেদ ছিল না। নব-ব্রাহ্মণ্য একটা বিশিষ্ট শ্রেণীর সৃষ্টি করিয়া জনস...

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর

https://www.facebook.com/share/1CGu5LJySP/ https://www.facebook.com/share/1CGu5LJySP/লেখাটা একটু বড়ো। না পড়লে কিছু হবে না। তবে পড়লে আপনার লোকসান হবে না বলেই আমার বিশ্বাস। বাবাসাহেব ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দলিত সাহিত্য আকাদেমির তিন দিবসীয় [১৭/১৮/১৯ নভেম্বর-২৫] সাহিত্য সম্মেলন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। ৭০টি পত্র পত্রিকা এবং প্রায় ৪০০ জন দলিত কবি লেখক আলোচক অংশ করেছিলেন এই সাহিত্য সম্মেলনে।এই সব কিছুর মধ্য দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি দলিত সমাজের শিক্ষিত কিছু জনকে কঠোর বাস্তবতার দিকে চোখ ফেরাতে। আজকে বঙ্গ জীবনের দ্বারপ্রান্তে এমন একটা ভয়াবহ সময় এসে উপস্থিত হয়েছে যে দলিত জীবন বিদ্ধস্ত বিপন্ন করে দেবার মনুবাদী সমস্ত আয়োজন প্রায় সম্পুর্ন হয়ে গেছে। মাত্র দিন কয়েকের অপেক্ষা তারপরই তাঁরা হিংস্র জঘন্য মানবতা বিরোধী, দলিত সংহারক-কোটি প্রান বলিদানের মহাযজ্ঞ প্রারম্ভ করবার নিখুঁত ব্যবস্থাপনা শুরু করে দেবে। যার প্রথম ও প্রধান বলি হবে বঙ্গের নমশূদ্র সমাজ।এই সমাজ ব্রাম্মন্যবাদী মনুবাদীদের কাছে অসহ্য একটি জনগোষ্ঠি ।যাঁদের ধ্বংস বিদ্ধস্ত না করে দিতে পা...

বঙ্গভূমি

বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ? গবেষকরা বলেন , আজ থেকে ৬০ হাজার বছর পূর্বে চীন থেকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন শুরু হয়।আজ থেকে পাঁচ কোটি বছর আগে ভারতের হিমালয় থেকে আসা পলি জমতে জমতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।" খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে, নন্দ সাম্রাজ্যের গঙ্গারিড়াইয়েই শক্তিশালী শাসকরা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের অভিযানের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল এই বাংলায়।বাংলার অধিকাংশ অঞ্চল ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ।গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর বাংলা রাজা শশাঙ্কের শাসনে আসে।৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে গোপালের উত্থানের সাথে বাংলা পাল সাম্রাজ্যর অধীনে আসে। তাদের অধীনে বাংলাদেশ চর্যাপদের মতো সাহিত্যর সংস্পর্শে আসে। কিন্তু এই বাংলায় মূল সমস্যা শুরু হয় ত্রয়োদশ শতকে ইখতিয়ার বিন বখতিয়ার খিলজিদের আগমনের মধ্যে দিয়ে।১৩ শতক থেকে ২০২৫ সাল আজ পর্যন্ত এই বাংলা ভূখন্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে " হিন্দু - মুসলমান " সমস্যা। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হিন্দু ও মুসলমান অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে। এটাকে উপলদ্ধি করেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে " ধর্মনিরপেক্ষতা " শব্দটা জুড়ে দিয়েছিলেন। অ...